গরীবদের জন্য জার্মানি ধনীদের জন্য বাংলাদেশ - Ls Diaries

গরীবদের জন্য জার্মানি ধনীদের জন্য বাংলাদেশ

বাংলাদেশ মূলত ধনীদের দেশ! 

আর জার্মানি গরীবদের দেশ। অফুরন্ত টাকা থাকলে বাংলাদেশ বসবাসের জন্য সেরা একটি দেশ।

এই ধরেন, কারিনা কায়সার কে - চিকিৎসার জন্য এয়ার এম্বুলেন্সে করে ইন্ডিয়া নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।  টাকা আছে তাই উন্নত চিকিৎসা!! ওর জায়গায় অন্য সব আমজনতা হলে, হসপিটালে মারা যেতো। সো তার মানে বাংলাদেশে সবার জীবনের মূল্য এক না? সবার জন্য চিকিৎসাও এক না!! টাকা থাকলে সুবিধা আছে, টাকা না থাকলে নাই।

এই ধরেন জার্মানিতে সবার জন্য সমান ব্যবস্থা,  এখন মনে করেন জার্মানিতে যে কেউ অসুস্থ হলো? দ্রুত হসপিটালে নিতে হবে। তার জন্য তখন হেলিকপ্টার আসবে!! আর আমি এগুলো নিজের চোখে দেখছি ও..? এবং এটা খুব‌ই কমন ব্যাপার। কারণ এখানে কে ধনী আর কে গরীব এগুলো দেখে না!! কোন দেশ কোন দল, কোন জাত এগুলো এখানে কেয়ার করে না। একটা মানুষ অসুস্থ!! ঐ মূহুর্তে যেটা ভালো সবচেয়ে সেটাই করবে। হেলিকপ্টার হোক , বিমান হোক, যাই হোক!! সেই ব্যবস্থাটাই করা হবে।

তো আমার মতো গরীব যারা তাদের জন্য জার্মানি ভালো!! কারণ আমার পকেটে এক টাকা না থাকলেও আমি কোটি টাকার চিকিৎসা করাতে পারবো।।

এবার একটা ইন্টারেস্টিং তথ্য দেই। বাংলাদেশে সম্ভবত ৫০০+ শিশু অলরেডি হামে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে !! আর‌ও ৫০ হাজার শিশু এখন হামে আক্রান্ত।

যে শিশুগুলো ইতিমধ্যে মারা গেছে এদের সবার মা বাবা গরীব!! ধনীর শিশু হামে মারা যায় না! আর রাষ্ট্রের টাকায় অর্থাৎ আমাদের টাকায় হামের টিকা না কিনে ঐ টাকা মেরে খেয়ে বসে আছে, সরকারী আরেক ধনী? আর মরছে আমাদের বাচ্চারা।।

টাকা আমাদের!! বাচ্চা আমাদের!! আমরা গরীব!! নাকি গরীব হয়ে জন্মানো টাই পাপ।। এইভাবে আর কত চলবে বাংলাদেশ, যেখানে মানুষ অসহায়। এই দূর্নীতি আর অনিয়ম কবে শেষ হবে। এই প্রশ্ন থেকেই যায়??

Germany park
Ls Diaries


•|• জার্মান প্রবাসী •|•


দেশ ছেড়ে যেদিন বিদেশের মাটিতে এসেছি

 সেইদিন বুঝতে পেরেছি বাস্তবতা কি?

বাস্তবতা বলতে আমি বুঝি, যতক্ষণ একটা জিনিস বা বিষয়ে নিজের উপরে গড়ায়, 

ততক্ষন বুঝা যায় না।

বাস্তবতা আসলেই কতটা কঠিন?

নিজ দেশে থাকাকালীন,

কখনো মনেই হবে না কষ্ট কি।

জীবনে চলার পথটা কতটা দীর্ঘ।

বিদেশের মাটিতে আসলে এটা প্রতিটা পদে পদে উপলব্ধি করা যায়। বিশেষ করে যখন কেউ পাশে থাকে না, ভরসা দেওয়ার মত। বিদেশের মাটিতে অধিকাংশ মানুষই স্বার্থ-লোভী - যে যার যার মত করে ভাবে।

খুব কম মানুষই অন্যের উপকারে আসে, যখন নিজের কেউ থাকে না, বিদেশের মাটিতে তখন তো নিজেকে আরও বেশি অসহায় মনে হবে। বাস্তবতা বড়ই কঠিন দেশ কিংবা বিদেশে - যখন পাশে কেউ থাকে না। তখন নিজেকে সবচেয়ে বেশি হতাশাগ্রস্থ মনে হবে এটাই স্বাভাবিক।

জীবনে চলতে হলে মানিয়ে আর লড়াই করে সকল ভয় বাঁধা গুলো কে - জয় করতে হবে। 

[প্রবাস জীবনের বাস্তবতা কোন এক আর্টিকেলে বিস্তারিত তুলে ধরা হবে ]

•|•


ইউরোপ বলেন আর মধ্যেপ্রাচ্য বলেন

 যেখানেই যান এই প্রবাস জীবন একটা লটারীর মতোই ধরে নিতে হবে। কারো ভাগ্য খুলে করোটা আবার একদমই খুলে না, অনেকেই প্রবাসে আছে প্রচুর পরিশ্রম করেও জীবনে সফলতার মুখ দেখতে পারেন না। এর কারণ হচ্ছে, অযাচিত জায়গায় নিজের সময় ও শ্রম দিয়ে যাওয়া।

আপনাকে জীবনে সবার আগে ভাবতে হবে! আপনি আসলে

কোথায় শ্রম দিতে যাচ্ছেন। আপনি যে টাকা খরচ করে বিদেশ যাচ্ছেন, সেই পরিমান টাকা দিয়ে অনেকেই আবার দেশে বসে নানান কিছু করেই - জীবনে উন্নতি করছে। আর আপনি এই টাকা নিয়ে পৃথিবীর আরেক প্রান্তে চলে গেলেন, তাও জীবনে কিছু হচ্ছে না।

জীবনে টাকা উপার্জন আসলে মাথার খেলা বা বুদ্ধির খেলা? শারীরিক পরিশ্রমের নয়। আমি নিশ্চিত নয় তারপরও বলতে পারি, মধ্যপ্রাচ্য বা ইউরোপ, আমেরিকায় ১০০ জনের মধ্যে কমপক্ষে ১০ জন হয়তো ভালো জীবন যাপন করতে পারে। বাকীরা আশায় থাকে, আর আশায় থেকে থেকেই জীবন শেষ‌ হয়ে যায়।

আমি নিজেও আগে মনে হতো বিদেশ গেলেই, মনে হয় শুধু টাকা আর টাকা। কিন্তু পরে অনেক ভেবে দেখলাম বিদেশ আরও বেশি ভয়ানক জায়গায়।

অথচ বিদেশ গিয়ে সবাই কি করে? সেই অড জব‌ করে। যেগুলো আপনি নিজ দেশে করতে লজ্জা পাওয়ার চিন্তা করতেন?  অথচ বিদেশ যাওয়ার টাকা দিয়ে ঢাকার ফুটপাতে, একটা ব্যবসা দিলেও অন্তত মাসে আপনি ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা অনায়েশেই ইনকাম করতে পারতেন। এর জন্য প্রয়োজন ছিলো শুধু আপনার লজ্জা নামক "শত্রু" কে ঝেড়ে ফেলা।

Bangla quotes
Ls Diaries


আজকাল মানুষ চুরি - বাটপারি, দূর্নীতি , চাঁদাবাজি করতেও "লজ্জা" পায় না। আর আপনি নিজের শ্রমে ঘামে টাকা উপার্জন করবেন না, তাতেই এতো লজ্জা?

মানুষ মনে করে বিদেশ একটা ফ্যান্টাসি। মানুষ ভাবে বিদেশে গেলেই হয়তো সে ধনী হয়ে যাবে। আবার হচ্ছে না যে তাও না? তবে সেটা খুব কম মানুষই হচ্ছে। কিন্তু অধিকাংশ মানুষ‌ই হতাশায় জীবন পার করছে। তাদের আর ফেরার পথ নেই, তাই আটকে আছে সেখানে।

কিন্তু আপনার এখনো পথ আছে, ৫ থেকে ১০ লাখ টাকা দিয়ে বিদেশে না‌‌ গিয়ে- খুব চিন্তা ভাবনা করে দেশেই একটা ব্যবসা শুরু করতে পারেন।  লজ্জা পেলে দিন, দেখবেন এখানেই সফল হচ্ছেন। 

পরিবার পরিজন বন্ধুবান্ধব স্বজন সব বিসর্জন দিয়ে মাসে ২ লাখ টাকা ইনকাম করার চেয়ে জীবনের সফল ভালো লাগা পাশে নিয়ে, মাসে ৫০ হাজার টাকা ইনকাম করা অধিক তৃপ্তি ও আনন্দের।


<---------- •|• -------------->